Home » অর্থাভাবে মেডিকেল ভর্তি অনিশ্চিত তামান্নার

অর্থাভাবে মেডিকেল ভর্তি অনিশ্চিত তামান্নার

by প্রিয় দেশ ডেস্ক:

তবে কি দারিদ্রের কাছে হেরে যাবে তামান্নার ডাক্তার হবার স্বপ্ন !

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা: ডাক্তার হবার স্বপ্ন সত্যি হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চিয়তায় দিন কাটছে তারজিনা আক্তার তামান্নার। গত ৪ এপ্রিল রোববার প্রকাশিত এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়ে তামান্না। তার টেস্ট স্কোর ৭১.৫, মেরিট স্কোর ২৭১.৫, মেধা তালিকার স্থান ২২৬৭।

সে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বেলদহ গ্রামের তারা মিয়ার মেয়ে। তামান্না ২০১৮ সালে জয়মনিরহাট উচ্চ বিদ‍্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ ও ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রী কলেজ থেকে ২০২০ সালে এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে।

তামান্না জানায়, মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে কিন্তু মেডিকেলে ভর্তি ফি, হিউম্যান ব্র ক্রয় ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক খরচ বাবদ প্রায় ৯০ হাজার টাকা প্রয়োজন। যা আমার পরিবারের পক্ষে যোগার করা অসম্ভব।

টাকার চিন্তায় ভালোলাগার অনুভূতি হারিয়ে গিয়ে তামান্নার চোখেমুখে ফুটে উঠেছে দুশ্চিন্তার ছাপ। মেধা তালিকায় স্থান হলেও দারিদ্রের বাঁধাকে অতিক্রম করে মেডিকেলে ভর্তি হওয়াটা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে তার জন‍্য।

দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া দুই বোনের মধ্যে বড় তামান্না। অজপাড়া গাঁ থেকে দারিদ্রের সাথে লড়াই করে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় পরিবারের পাশাপাশি খুশি গ্রামবাসীরাও। অন্যদিকে মেয়েকে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। দরিদ্র পিতার কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

তামান্নার বাবা তারা মিয়া জানান, সংসার চালাতে বিভিন্ন হাট-বাজারে ফেরি করে কাপড় বিক্রি করি। কোন মতে সংসার চলে, স য় বলতে কিছু নেই। মেয়ের লেখা পড়ার খরচ চালাতে আরডিআরএস নামক এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছি। তামান্না এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ায় এনজিওটি তামান্নাকে ২৪ হাজার টাকা বৃত্তি দিয়েছে। বৃত্তির সেই টাকা দিয়ে তামান্নাকে রেটিনা কোচিংয়ে ভর্তি করাই। তামান্নার অনলাইন ক্লাশের সমস্যা সমাধানে মালয়েশিয়া প্রবাসী পরিচিত একব‍্যক্তি একটি মোবাইল ফোন কিনে দেয়। মেয়ে আমার অভাবের সাথে লড়াই করে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।

তামান্নার মা লাইলি বেগম বলেন, বাড়ির ভিটে ছাড়া চাষাবাস করার মতো কোনো জমি নাই। স্বামীর সামান‍্য আয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। ডাক্তারি পড়তে হতে নাকি অনেক টাকা লাগে? মেয়েকে ডাক্তারি পড়াতে এতো টাকা কোথায় পাবো? কিছুই বুঝতে পাচ্ছিনা।

ভূরুঙ্গামারী মহিলা কলেজের অধ‍্যক্ষ খালেদুজ্জামান জানান, তামান্না মেধাবী ছাত্রী । কলেজে অধ্যয়নকলে কলেজের পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। তামান্না যেন দারিদ্রের কাছে হেরে না যায় সে জন‍্য তিনি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।


এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Comment