Home » একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার!

একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার!

by মুহাম্মদ হযরত আলী

ভূমি ও গৃহহীনদের জমি এবং বাড়ি প্রদান প্রকল্পের বেঁচে যাওয়া ২৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদান করেছেন রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলানির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সারাদেশে ভুমি ও গৃহহীনদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে জমিএবং ঘর প্রদান করাহয়। প্রতি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন। পত্রিকার খবরে জানা যায় রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটা গরীর সর্বমোট ২শ ৯৬ টি বাড়ী নির্মান বাবদ প্রায় পৌনে ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ সিডিউল মোতাবেক ভাবে সম্পন্ন করে এ খাতের উদৃত ২৫ লক্ষ টাকা সরকারী কোষাগারে ফেরত প্রদানের মাধ্যমে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে ।

প্রায় ৬ কোটি টাকার প্রকল্পে ২৫ লক্ষ টাকা উদৃত হওয়া বা বেচে যাওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ যোগ্য কিছু না হলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আলোচনা যোগ্য বিষয় এবল অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মেহেদীহাসান জানিয়েছেন পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মাধ্যমে বাড়ি নির্মাণের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। কাজ শুরু করার আগেই কমিটির সদস্যদদের সাথে পরামর্শকরে নিয়েছিলেন কমিটি প্রধান।পরমর্শ অনুযায়ী কাজ শেষ করে যদি বরাদ্দ কৃত টাকা উদৃত থাকে তাহলে সরকারি কোষাগারে ফেরতদেয়া হবে মর্মে সিদ্ধান্ত ছিল।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মেহেদী হাসানের ব্যাক্তিগতপরিচিতি বা তার সততা,দায়ীত্বশীলতা ও দক্ষতা ইত্যাদি কিছুই আমাদের জানা নেই তবে ছবি দেখে বুঝতে পেরেছি তিনি ধর্ম ভীরু মানুষ। অনুমিত হয় জনাব মো. মেহদী হাসান ব্যাক্তিগত জীবনে আল্লাহর ভয় ও রাসুল( সা.)আদর্শ অনুশীলনে স্বচেষ্ট।

তার পরও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনে করলেই প্রকল্পের টাকা উদৃত দেখাতে পারতেন না যদি কমিটির অন্যান্য সদস্যদের আন্তরিক সহযোগিতা না পাওয়া যেত। পরামর্শ ক্রমে সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতেই এ সফলতা অর্জিত হয়েছে। পরামর্শক্রমে কাজ করা গনতান্ত্রিক মুল্যবোধ এর মুল্যায়ন এবং ইসলামী আদর্শের অনুশীলনেরই বহিঃপ্রকাশ।

উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, মুজিব শতবর্ষের উপহার হিসেবেদেশের ৫ শতাধিক উপজেলাতেই একযোগে গৃহহীনপরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ কর্মসূচি ছিলো, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্ষেত্র বিশেষে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমেই এ কর্মযজ্ঞ সম্পাদিত হয়েছে কিন্তু এক মাত্র বদর গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ব্যাতিত আর কোন জেলা বা উপজেলা থেকে অর্থ বেচে যাওয়ার খবর আমাদের চোখে পড়েনি। উপরন্তু আমরা জেনেছি কোন কোন উপজেলায় এখনো গৃহ নির্মান কাজ সমাপ্তই হয়নি ফলে গত ৩০ জুনের মধ্যে টাকার হিসাব মিলানো এবং উদৃত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদানের সুযোগ কোথায় ?

জনাব মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন এই এলাকায় কোন কোন নির্মাণ সামগ্রীর দাম কম থাকায় কিছু টাকা বেচে গেছে,এটা কোন বাহাদুরী নয়,দায়ীত্ব বোধ ও স্বচ্ছতার জায়গা থেকে এটা করা হয়েছে।

মোবারকবাদ জনাব মেহেদী হাসানকে,দেশের সকল স্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়ীত্ব বোধ ও স্বচ্ছতা জাগিয়ে তুলতে আপনার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবেকাজ করবে এ প্রত্যাশা দেশ ও জাতির ।


এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Comment