Home » ফিরে এলো আজ সেই মহরম মাহিনা; ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাহিনা

ফিরে এলো আজ সেই মহরম মাহিনা; ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাহিনা

by মুহাম্মদ হযরত আলী

বিদ্রোহী কবি মরহুম কাজী নজরুল ইসলামের “মুহাররম”কবিতার একটি পঙতি দিয়েই শিরোনাম করেছি। কেননা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ৬১ হিজরী সনের আশুরার দিনে কারবালার প্রান্তরে সংঘটিত ইতিহাসের সর্বাধিক ঘৃনিত ও মর্মান্তিক ঘটনার সচিত্র বিবরণ উপস্থাপন ও মুসলিম মিল্লাতের চেতনা জাগিয়ে তুলেছেন মুহাররম কবিতায়।

আরবি ক্যালেন্ডারে বর্ষ শুরুর মাসের নাম মুহাররাম । সাইয়েদিনা ইসা(আ.)এর জন্ম থেকে ইসায়ী,খৃষ্ট বা ইংরেজি সাল,পাকভারত উপমহাদেশে সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলা সাল এবং বিশ্বনবী রহমাতুল্লিল আলামীন সাইয়েদিনা মোহাম্মদ(স.)এর হিজরতের সময় থেকে হিজরি সালগননা শুরু হয়।সকল ক্ষেত্রেই বারো মাসে একসাল বা এক বছর ধার্যকৃত।হিজরী (আরবি)সালের সঙ্গে অন্যান্য সালের দিনের পার্থক্য আছে অর্থাৎ আরবি একসাল হয় ৩৫৪ দিনে আর অন্যান্য সাল গুলো হয় ৩৬৫ দিনে।এর কারন হলো আরবী সাল চান্দ্রভিত্তিক বা চন্দ্র বর্ষ এবং অন্যান্য সালগুলো সূর্যভিত্তিক বা সৌরবর্ষ। চন্দ্র৩৫৪দিনে এবং সূর্য ৩৬৫দিনে একবার পৃথিবীপ্রদক্ষিণ করে তাই চান্দ্র বর্ষ সৌর বর্ষের চেয়ে ১১দিন কম হয়ে থাকে।

পবিত্র কুরআনুল কারিমের সুরা তাওবার ৩৬ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন ” আসমান সমুহ ও পৃথিবী শৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহ তায়ালার বিধানে মাসের সংখ্যা বারোটি, এ বারোটি মাসের মধ্যে চারটি হচ্ছে যুদ্ধ বিগ্রহের জন্য নিষিদ্ধ মাস (মুহাররম, সফর,রবিউল আওয়াল ও রবিউসসানি)”।

আলোচ্য আয়াত থেকে জানা গেল যে, জমিনও আসমানের নিয়ম তান্ত্রিকতার প্রয়োজনে মহান শ্রষ্টা আল্লাহ তায়ালা গগন মন্ডল ও পৃথিবী শৃষ্টির দিন থেকেই সন মাস গননার বিধান রেখেছিলেন,আর তা ছিল চান্দ্র ভিত্তিক। আরো জানা গেল বছরের প্রথম চারটি মাসে আল্লাহ তায়ালার বিধান মতে যুদ্ধ বিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল।কারবালার প্রান্তরের নির্মম ঘটনা ছিল ৬১ হিজরীর মহরম মাসের ১০ তারিখ বা ৬৮০ খৃষ্টাব্দের ১০ অক্টোবর ।

পাপিষ্ট,নির্মম, নির্দয় ও পাষন্ড হ্রদয়ের ইয়াজিদ বাহিনী ইসলামের খিলাফত ব্যাবস্থাকে ধ্বংস করে সৈরাচারী কায়দায় রাষ্টীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার লোভে মত্ত হয়ে যুদ্ধ বিগ্রহ নিষিদ্ধ চারটি মাসের প্রথম মাসেই আল্লাহ তায়ালার বিধান লঙ্ঘন করে মহানবী( স.) এর দৌহিত্র ও কলিজার টুকরা ইমাম হুসাইন( রা.) সহ নবী বংশের বাহাত্তর জন নারী, পুরুষ ও শিশু সন্তান বর্বরোচিত উপায়ে হত্যার মাধ্যমে মানবতার ইতিহাসে এক কলংক জনক অধ্যায়ের রচনা করে।

ইমাম হুসাইন(রা.) যে, খিলাফত ব্যাবস্থার পুনর্জীবনের জন্য নিজের জীবনকে অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে গেছেন, আজো মুসলিম বিশ্বের কোথাও সে পুর্নাঙ্গ ইসলামী খিলাফত ব্যাবস্থা নেই। আশুরার দিনে বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়কে খিলাফত ব্যাবস্থা পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য কারবালার প্রান্তরের হ্রদয় বিদারক ঘটনার ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে মুসলিম মিল্লাতের শপথ নিতে হবে।শুধু মাত্র চোখের জলে বুক ভাসিয়ে ক্রন্দন জাতির জীবনে কোন প্রকার সুফল বা কল্যাণ বয়ে আনবেনা।


এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Comment