এটা কোনো গল্প নয়। এটা গাজার বাস্তবতা।

এটা কোনো গল্প নয়। এটা গাজার বাস্তবতা।
Views: 3 Like (0) Dislike (0) Shares (0)

এটা কোনো গল্প নয়। এটা গাজার বাস্তবতা।একজন বয়স্কা নারী—ফাতিমা আবু সাদা। যাঁর জীবনের শেষ দিনগুলো কাটার কথা ছিল শান্তিতে, নিরাপদে। কিন্তু তিনি বেঁচে আছেন একটি খামারের পুরনো ট্র্যাক্টরের ভেতর। চার দেয়াল নেই, চিকিৎসা নেই, স্বস্তি নেই—শুধু শ্বাস নেওয়ার লড়াই। হাঁপানিতে ভুগছেন ফাতিমা। প্রতিটি শ্বাস তার জন্য যুদ্ধ। যন্ত্র দরকার, অক্সিজেন দরকার, একটু চিকিৎসা দরকার। কিন্তু গাজায় সেগুলো নেই। অবরোধ সব বন্ধ করে দিয়েছে। ওষুধ নেই, যন্ত্র নেই, আশাও যেন আটকে গেছে সীমান্তের কাঁটাতারে।

আর তার পাশে আছে ছেলে সামেহ।

একজন ছেলে, যে প্রতিদিন নিজের মাকে মরতে দেখছে ধীরে ধীরে। কিছুই করার নেই—ডাক্তার নেই, হাসপাতাল নেই, সাহায্য আসার পথ নেই। তখন সামেহ যা করেছে, সেটা কোনো প্রযুক্তি নয়, কোনো আবিষ্কারও নয়—ওটা নিখাদ অসহায়ত্বের ফল।

সে একটি ম্যানুয়াল টায়ার পাম্প নিয়ে এসেছে। যেটা দিয়ে সাধারণত গাড়ির চাকা ফুলানো হয়। সেই পাম্প সে মায়ের মুখে ধরে, হাতে হাতে চাপ দেয়—শুধু এই জন্য, যেন তার মা আরও কিছুক্ষণ শ্বাস নিতে পারে।
প্রতিটি চাপের সঙ্গে সে নিজের বুক চেপে ধরে।
প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে সে ভয় পায়—এই বুঝি শেষ।

এটা কোনো গল্প নয়। এটা গাজার বাস্তবতা। এই দৃশ্য কোনো সিনেমার না।
এটা কোনো নাটকের সংলাপ না। এটা এক ছেলের ভালোবাসা, আর এক মায়ের অসহায়তার নীরব আর্তনাদ। যেখানে একজন বৃদ্ধা নারী বাঁচে ট্র্যাক্টরের ভেতর,আর তার ছেলের হাতেই ভেন্টিলেটর হয়ে ওঠে একটি টায়ার পাম্প—সেই পৃথিবী আমাদের সবার প্রশ্ন করে। আমরা কি সত্যিই মানুষ?